গতকাল রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা পরিণত হয়েছিল শোক, শ্রদ্ধা ও ভালবাসার এক বিশাল মানবসমুদ্রে। আপোষহীন ও সংগ্রামী নেত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে আসেন। বয়স, পেশা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সবার অনুভূতিতে ছিল একটাই কথা […]

গতকাল রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা পরিণত হয়েছিল শোক, শ্রদ্ধা ও ভালবাসার এক বিশাল মানবসমুদ্রে। আপোষহীন ও সংগ্রামী নেত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে আসেন। বয়স, পেশা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সবার অনুভূতিতে ছিল একটাই কথা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য যিনি আজীবন লড়াই করেছেন, তাকে শেষ বিদায় জানানো।

ভোর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউয়ের চারপাশে মানুষের ঢল নামে। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে দলীয় পতাকা, আবার অনেকের চোখে ছিল নীরব অশ্রু। উপস্থিত জনতার মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, বৃদ্ধ–তরুণ, নারী–পুরুষ সবাই।
এই জনস্রোতের মাঝেই কথা হয় জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার মাত্রাই ইউনিয়ন থেকে আসা বিএনপির কর্মী মাহবুবুর রহমান লিটনের সঙ্গে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জানাজায় অংশ নিতে আসা লিটন বলেন, “নেত্রী ছিলেন আপোষহীন। অন্যায়, জুলুম আর ক্ষমতার দম্ভের কাছে তিনি কখনো মাথা নত করেননি। দলের দুঃসময়ে হাল ধরে তিনি আমাদের সাহস জুগিয়েছেন।” আবেগ ধরে রাখতে না পেরে তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ যেন আমাদের নেত্রীকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

অনেকেই জানান, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দৃঢ় প্রতীক। বহু মানুষ দল হিসেবে বিএনপিকে সমর্থন না করলেও ব্যক্তিত্ব, সাহস ও ত্যাগের কারণে তাকে সম্মান করতেন। তার জীবনের সংগ্রাম, কারাবরণ, অসুস্থতা সবকিছুই মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
মানিক মিয়া এভিনিউতে গতকালের জানাজা ছিল শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ছিল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ও ইতিহাসের সাক্ষ্য। শোকের এই দিনে লাখো কণ্ঠের দোয়ায় একটাই প্রার্থনা আল্লাহ বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।










