ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর পরদিন গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের বিকেলে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীরা বড় জনসভা ও মিছিল করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। এ সময় তারা বলেন, ৯১ সালের মতো ধানের শীষের পক্ষে আবারও জোয়ার উঠেছে। দেশকে এগিয়ে নিতে তারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান। গতকাল বিকেলে মুন্সীগঞ্জ […]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর পরদিন গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের বিকেলে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীরা বড় জনসভা ও মিছিল করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। এ সময় তারা বলেন, ৯১ সালের মতো ধানের শীষের পক্ষে আবারও জোয়ার উঠেছে। দেশকে এগিয়ে নিতে তারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান।
গতকাল বিকেলে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন। এর আগে বিকেল ৪টা থেকে নির্বাচনী এলাকার গজারিয়া উপজেলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
পরে শহরের থানারপুল এলাকায় অঙ্কুরিত মুক্তিযুদ্ধ-৭১ ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। এরপর তিনি পৌর মার্কেটে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে অফিস কক্ষে থাকা শোক বইয়ে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মন্তব্য লেখেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহম্মেদ, চরকেওয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাকিম মিজি, সুইডেন বিএনপির সভাপতি লিটন মিজিসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাব
গতকাল বিকেল ৫টায় গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি কলেজ মাঠে ধানের শীষের সমর্থনে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বলেন, আমরা গাজীপুর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। টঙ্গী থেকে প্রচার শুরু করলাম। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আমরা কেন্দ্রে যাব, আর ফল নিয়ে ঘরে ফিরব। মনে রাখতে হবে, আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের হাতেই নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই ধানের শীষ, ৯১ সালের মতো জোয়ার উঠেছে। তবে কাউকে দুর্বল মনে করলে চলবে না। কেউ ঘরে বসে থাকবেন না। সবাইকে মাঠে কাজ করতে হবে।
শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক বসির উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার, বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দিন ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার প্রমুখ।
তরুণদের নিয়ে পথচলার অঙ্গীকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন। এ সময় তিনি তরুণদের নিয়ে আগামীর পথচলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জের বালীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধানের শীষের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারাটি জীবন গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। আমি ১১ বার জেল খেটেছি, একবার গুলিবিদ্ধ হয়েছি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে আমি আশা রাখছি। তিনি বলেন, তরুণদের নিয়ে আগামীর পথ চলাই আমার অঙ্গীকার। আজকে তরুণ প্রজন্ম আমার কাছে যে দাবি রেখেছে তা পূরণ করার জন্য আমি সচেষ্ট থাকব।
সাবেক ছাত্রনেতা এবিএম আবু বকর ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. হোসনে মোবারক, প্রভাষক নুসরাত জাহান মোনা, শিক্ষক কৃষাণ সাহা, ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিহান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার, নারী উদ্যোক্তা ফারজানা আক্তার পলি, গ্রামীণফোনের এক্সিকিউটিভ অফিসার সোহাগ মোল্লা, ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন-এর কালীগঞ্জ সমন্বয়ক আশিক, ইয়ুথ অ্যাক্টিভিস্ট রানা সরকার। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ইমাম উপস্থিত ছিলেন।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)










