রাজধানীর মুগদা এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বেইজমেন্টে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান দখল করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘মুগদা ডায়াগনস্টিক এন্ড ইমেজিং সেন্টার’। প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও অনুমোদনের শর্ত অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা শুধু বেআইনি নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেইজমেন্টে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ […]

রাজধানীর মুগদা এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বেইজমেন্টে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান দখল করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘মুগদা ডায়াগনস্টিক এন্ড ইমেজিং সেন্টার’। প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও অনুমোদনের শর্ত অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা শুধু বেআইনি নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেইজমেন্টে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০০৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে অনুমোদিত নকশায় বেইজমেন্ট পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেটি দখল করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে, যা সরাসরি অনুমোদন শর্তের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে রাজউক গত ২৬ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের অনুরোধ জানায়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পার্কিং সুবিধা না থাকায় ভবনের গাড়িগুলো আশপাশের সড়কে এলোমেলোভাবে রাখা হচ্ছে, যার ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নিত্যদিনের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বেইজমেন্টে এ ধরনের স্থাপনা অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্ঘটনার সময় ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে।
একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “রাজধানীর মধ্যেই যদি এভাবে আইন ভেঙে ব্যবসা চালানো যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে একদিনেই এসব বন্ধ করতে পারে।” অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধনপ্রাপ্ত। এতে প্রশ্ন উঠেছে—নকশাবহির্ভূত স্থাপনায় কীভাবে এ ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হলো? একইসঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে, যা প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি ও তদারকির দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ভবন মালিক তারিকুল ইসলাম বলেন, পার্কিংয়ের জায়গা ভাড়া দেওয়া ভুল হয়েছে। আমরা বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি এবং শিগগিরই সেন্টারটি অন্য তলায় স্থানান্তর করা হবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ারহোল্ডার পলাশ মাহমুদও একই আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছে রাজউক।
রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবুও কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজমেন্টে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে রেডিয়েশন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও গ্যাস ব্যবস্থার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেশি থাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণহানির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
সচেতন মহল মনে করছে, এখনই সময় কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার। রাজউকের উচিত অনুমোদন লঙ্ঘনের দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত নিবন্ধন বাতিল করা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উচিত যথাযথ যাচাই-বাছাই করা।
অন্যথায়, এ ধরনের অনিয়ম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে—যেখানে আইন থাকবে কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয়। বিস্তারিত আসছে খুব শিগগিরই











| রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র | শনি |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | |
| ১ | ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | ||
