সম্পূর্ণ নিউজ Banglardarpan24.com

প্রধান খবর
১২:৩০ অপরাহ্ণ, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আবেগাপ্লুত তারেক রহমান কাঁদলেন, দিলেন সান্ত্বনা

প্রাণপ্রিয় সন্তান হারিয়ে অন্তর-জ্বালায় ডুকরে কাঁদছিলেন মা। স্বামীর শূন্যতায় কোনো কোনো স্ত্রীর চোখ ছলছল। বাবার স্মৃতি অনেক ছেলের মনের আয়নায় আজও অবিকল। সবারই মনোযন্ত্রণা এক ও অভিন্ন। প্রিয়জন হারানোর কষ্টের ঢেউ এতটাই প্রবল, চোখের আঙিনায় অশ্রুধারা। এত এত বেদনার গল্প শুনে আবেগাপ্লুত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও থামাতে পারেননি কান্না। সন্তানহারা মাকে জড়িয়ে কেঁদেছেন, মুছেছেন ভেজা […]

Comfort
রাজনীতি ডেস্ক
৫ মিনিটে পড়ুন |

প্রাণপ্রিয় সন্তান হারিয়ে অন্তর-জ্বালায় ডুকরে কাঁদছিলেন মা। স্বামীর শূন্যতায় কোনো কোনো স্ত্রীর চোখ ছলছল। বাবার স্মৃতি অনেক ছেলের মনের আয়নায় আজও অবিকল। সবারই মনোযন্ত্রণা এক ও অভিন্ন। প্রিয়জন হারানোর কষ্টের ঢেউ এতটাই প্রবল, চোখের আঙিনায় অশ্রুধারা। এত এত বেদনার গল্প শুনে আবেগাপ্লুত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও থামাতে পারেননি কান্না। সন্তানহারা মাকে জড়িয়ে কেঁদেছেন, মুছেছেন ভেজা চোখ।

গতকাল শনিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে যৌথভাবে আয়োজন করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়। সেখানেই দেখা যায় এমন আবেগঘন পরিবেশ।

কোনো মায়ের প্রশ্ন– কোথায় হারিয়ে গেল খোকা! কেউ জানাচ্ছিলেন, বাবার শূন্যতায় কেমন কাটছে নিরানন্দ জীবন। কেউ প্রিয় স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে নিজের অসহায়ত্বের জানান দেন। ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের শিকার হয়ে অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে। কেউ বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই, আবার কেউ স্বামী। তারা এখন এসব হত্যা-গুমের সুষ্ঠু বিচার চাইছেন।

“বহু সন্তান আজও অপেক্ষায়– গুম হয়ে যাওয়া বাবা একদিন ফিরে দরজায় কড়া নাড়বেন। অনেক মা এখনও আশায়, হারিয়ে যাওয়া সন্তানটি আবার ‘মা’ বলে ডাকবেন। এই অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দায়।”– তারেক রহমান অনুষ্ঠানে যখন কথাগুলো বলছিলেন, সবাই যেন বাকরুদ্ধ।

দেড় যুগের বেশি নির্বাসিত জীবন কাটানো তারেক রহমান শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, ‘গুম-খুনের সেই বিভীষিকার দিন শেষ হয়েছে। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

গুমের শিকার পারভেজ হোসেনের মেয়ে আদিবা ইসলাম হৃদি বলে, ‘গুম কমিশন বলে, ধরে নিন ওরা গুম… ওরা মৃত। কেন? এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই? একটা দল করা কোনো অপরাধ না। দল সবাই করে। এটা কেমন বিচার এই বাংলাদেশে?’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে বাবাকে খুঁজে দেওয়ার আকুতি জানায় হৃদি। ‘আমি তারেক রহমান চাচ্চুর কাছে আশা করি, আমাদের বাবাদের খুঁজে দেবেন। এই বাংলাদেশের মাটিতে এই গুমের বিচার করবেন।’

বাবার অপেক্ষায় থাকা এই কন্যা বলে, ‘বছর যায়, নতুন বছর আসে; কিন্তু বাবা আর আসে না। গত বছর ৫ আগস্টের পর এক বছরের বেশি পার হয়ে গেল, কিন্তু বাবাকে ফিরে পেলাম না।’

২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর গুম হওয়া সোহেল হোসেনের মেয়ে শাফা হোসেন বলে, ‘এক যুগের বেশি সময় বাবার অপেক্ষায় আছি, আজও বাবার মুখটা দেখতে পারিনি।’

একই বছরের ৪ ডিসেম্বর গুম হওয়া কায়সার হোসেনের মেয়ে লামিয়া আক্তার মিম বলে, ‘‘আমি জানি না ‘বাবা’ জিনিসটা আসলে কী! যদি জানতাম, বাবাকে আর কোনোদিন দেখতে পাব না, তাহলে সেদিন শক্ত করে বাবাকে জড়িয়ে ধরতাম।’’

২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম থেকে গুম হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম হিরু ও লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির পারভেজ। পারভেজের ছেলে রাতুল বলে, ‘আমার বাবার সঙ্গে বাবার চাচাকে র‍্যাব তুলে নিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত আমরা তাদের সন্ধান পাইনি। আমরা কি কেউ এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?’

রাষ্ট্র আপনাদের ভুলে যাবে না
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র কখনোই আপনাদের ভুলে যেতে পারে না। সব শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এ মুহূর্তে বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারছি না।

তবে জনগণের সমর্থন নিয়ে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে এসব শহীদের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনার নামকরণ করব। যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শহীদদের গৌরবের সঙ্গে স্মরণে রাখতে পারে।

আমাদের কর্মীরা গুপ্ত বেশ ধারণ করেনি
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির কর্মীরা কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্তবেশ ধারণ করেনি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে, সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।

নির্যাতনের শিকার আমার সামনে বসা হাজারো প্রিয় মুখ, আপনাদের বুকের আত্মত্যাগ, আপনাদের কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশকে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব, এটি যাতে বৃথা না যায়। আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আগামী দিনে এর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখছি। সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক দায় ও দায়িত্ব আছে।

বিএনপির এক নেতাকর্মীও রাজপথ ছাড়েনি
তারেক রহমান বলেন, গুম-খুন-অপহরণের শিকার এসব মানুষের শোকাতুর পরিবারগুলোর হয়ে কাজ করে যাচ্ছে একটি সংগঠন ‘মায়ের ডাক’। ফ্যাসিবাদের শিকার মানুষের প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছে মায়ের ডাকের সানজিদা ইসলাম তুলি। দল হিসেবে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু নিয়ে নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

তিনি বলেন, দেড় শতকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনও কখনও হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনও তুঙ্গে উঠেছে। বছরের পর বছর অসংখ্য গুম-খুন-অপহরণ মিথ্যা মামলার হয়রানি-নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মী রাজপথ ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছেন, আরেক ভাই গিয়ে তাঁর জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন।

কেউ কেউ গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে
তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিতর্ক সৃষ্টি করছে, গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি, তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহীদ, সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে। একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ’৯০-এর স্বৈরাচারের বিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ১৬ বছরে যারা গুম-শহীদ হয়েছেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, ’২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, প্রতিটি অন্যায়ের বিচারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি তাদের বিতর্কিত ভূমিকা দেখা গেছে। তারপরও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্যের পরিচয় দিতে চায়।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, রুহুল কবির রিজভী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, গুম হওয়া এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রমুখ তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
Advertise with us
আরও Banglardarpan24.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com