মোবাইল ফোন বেচাকেনায় সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। এতে ফোন ব্যবহারকারী ও গ্রাহকের তথ্য আরও নিরাপদ হবে বলে জানিয়েছেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) নেতারা। তাদের মতে, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধ ও নকল ফোনের বাজার সংকুচিত হবে। ফলে দেশে আরও কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনে আগ্রহী হবেন স্থানীয় […]

মোবাইল ফোন বেচাকেনায় সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। এতে ফোন ব্যবহারকারী ও গ্রাহকের তথ্য আরও নিরাপদ হবে বলে জানিয়েছেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) নেতারা। তাদের মতে, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধ ও নকল ফোনের বাজার সংকুচিত হবে। ফলে দেশে আরও কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনে আগ্রহী হবেন স্থানীয় ও বিদেশি নির্মাতারা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এনইআইআর–এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এমআইওবির নেতারা।
এমআইওবি বলছে, এত দিন এই ব্যবস্থা না থাকায় সরকার প্রতি বছর অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। এখন তা চালু হওয়ায় এই রাজস্ব পাবে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।
এমআইওবির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, উদ্যোক্তারা চান দেশের মানুষ আরও কম দামে মোবাইল ফোন কিনুক। দেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে তারা কাজ করছেন। এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ও এমআইওবির নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ১২ হাজার ৯৫২টি অনুমোদিত স্মার্টফোন বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ২৭০টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। তবে আনঅফিশিয়াল, রিফারবিশড ও অবৈধ ফোনের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রবেশ করা স্মার্টফোনের প্রায় ২০ শতাংশই গ্রে মার্কেটের মাধ্যমে আসে। এর ফলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন আনুষ্ঠানিক খাতের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অবৈধ বা গ্রে মার্কেটের কারণে সরকার প্রতিবছর ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
জিয়াউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের অফিসিয়াল বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ গ্রে মার্কেটের পণ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ কর ফাঁকি দেওয়া হয়, যার সঙ্গে বৈধ উৎপাদকদের প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে অবৈধ আইএমইআই ব্যবহার বন্ধ হবে এবং ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৮টি মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদন কারখানায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক। কারখানাগুলোর মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ লাখ স্মার্টফোন ও ২৫ লাখ ফিচার ফোন।
এমআইওবির দাবি, এনইআইআর কার্যকর হলে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের দাম ধীরে ধীরে কমে আসবে। দেশে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়লে স্কেল ইকোনমির কারণে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং এর সুফল ভোক্তারা পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অবৈধ ফোন বন্ধ হলে হাজার হাজার দোকান বন্ধ হয়ে যাবে- এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। সংগঠনটির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে স্মার্টফোনের প্রায় ১৩ হাজার খুচরা দোকানের মধ্যে ৯০ শতাংশই বৈধ পণ্য বিক্রি করে। মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার দোকান অননুমোদিত ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এমআইওবির নেতারা বলেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তারা এনইআইআর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান।









