মেয়াদ বিবেচনায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারে সব সময় ব্যবধান থাকে। তবে গত কয়েক মাসে তা কমতে কমতে জানুয়ারিতে মোটামুটি একই রকম সুদ দাঁড়িয়েছে। এখন সব মেয়াদের বিল ও বন্ডের সুদহার কমে ১০ শতাংশের ঘরে। চলতি মাসে ট্রেজারি বিলে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ সুদে বিক্রি হয়েছে। বন্ডের মধ্যে যেখানে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ […]

মেয়াদ বিবেচনায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারে সব সময় ব্যবধান থাকে। তবে গত কয়েক মাসে তা কমতে কমতে জানুয়ারিতে মোটামুটি একই রকম সুদ দাঁড়িয়েছে। এখন সব মেয়াদের বিল ও বন্ডের সুদহার কমে ১০ শতাংশের ঘরে। চলতি মাসে ট্রেজারি বিলে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ সুদে বিক্রি হয়েছে। বন্ডের মধ্যে যেখানে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ সুদ উঠেছে তিন বছর মেয়াদি ফ্লোটিং রেট ট্রেজারি বন্ডে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের ১০টি বিলের বিপরীতে সরকার মোট ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলে গত ৫ জানুয়ারি প্রথম নিলামে ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ১২ জানুয়ারি ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ সুদে সরকার ঋণ নিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে সুদহার ছিল ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ঠিক পরের কর্মদিবস ৭ জানুয়ারি সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে ঋণ নিয়েছে ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ সুদে। এর মানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারে কোনো তারতম্য নেই। অন্য সব নিলামের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। সাধারণভাবে সব সময়ই বিল ও বন্ডের সুদহারে একটি পার্থক্য থাকে। গত বছরের জানুয়ারিতে ৯১ দিন মেয়াদি বিলের সুদহার ছিল ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ। যেখানে পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে ছিল ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈদেশিক মুদ্রাপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে প্রচুর ডলার কিনছে। চলতি অর্থবছর এরই মধ্যে ২৮৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কেনার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। এ প্রবণতা ব্যাংক খাতের তারল্য বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। আবার বিনিয়োগ চাহিদা তেমন বাড়ছে না। গত নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ঋণের সুদ যোগ করে প্রবৃদ্ধির হিসাব করা হয়। ফলে প্রকৃত ঋণ বিতরণ না বাড়লেও আগের স্থিতির ওপর সুদ যোগ হয়ে এই প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে।
বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা তলানিতে নামলেও হঠাৎ করে সরকারের ঋণ চাহিদা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৫৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। এই ঋণের সবই নেওয়া হয়েছে সর্বশেষ দুই মাসে। অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে ৫০৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় এখন সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ১০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রেজারি বিল ও বন্ডে অভিন্ন সুদের এ রকম প্রবণতা সাধারণত দেখা যায় না। তবে বিনিয়োগ চাহিদা সেভাবে না থাকায় ব্যাংক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ সঞ্চয়কারী সবাই বিল-বন্ডে টাকা রাখতে চাইছে। নির্বাচনের পর আবার টাকার চাহিদা তৈরি হবে এমন ধারণা থেকে অনেকেই স্বল্পমেয়াদিতে টাকা রাখায় জোর দিয়েছে। সরকারও স্বল্পমেয়াদি বিলে টাকা নিয়ে আগের দায় পরিশোধসহ বিভিন্ন চাহিদা মেটাচ্ছে। নির্বাচনের পর আবার তারতম্য তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।










