ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মাহমুদুর রহমান মান্নার দাখিল করা হলফনামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। হলফনামায় […]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মাহমুদুর রহমান মান্নার দাখিল করা হলফনামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া এফিডেভিট সম্পাদনের এক দিন পর সেখানে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সম্পদ বিবরণীর ফরমও দাখিল করা হয়নি। এসব কারণেই মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফোন ধরেননি।
এদিকে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট সম্পাদনের দিনই মান্না স্বাক্ষর করেছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর সমর্থক নেতা–কর্মীদের চাপের মুখে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিল করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে এবং প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই দিনে বগুড়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিলগুলো নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ঋণখেলাপি তালিকায় মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী।
ডাকসুর সাবেক দুইবারের ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না অতীতে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচিত হতে পারেননি। এবার তিনি বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন। ২৪ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বগুড়া-২ আসনটি মিত্রদল নাগরিক ঐক্যের জন্য ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মীর শাহে আলমও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।











