হলিউড অভিনেতা ম্যাট ডেমন এবং বেন অ্যাফ্লেক। যারা একসঙ্গে পর্দায় চমক সৃষ্টি করেছেন বছরের পর বছর ধরে। তারকাবহুল এই জুটির বন্ধুত্ব এবং পেশাদার সম্পর্ক তাদের অভিনয়ের রসায়নকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাদের বন্ধুত্বের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, যখন তারা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন ‘ফিল্ড অব ড্রিমস’-এ। এরপর ‘স্কুল টাইস’ (১৯৯২), ‘গুড উইল হান্টিং’ (১৯৯৭), ‘চেসিং […]

হলিউড অভিনেতা ম্যাট ডেমন এবং বেন অ্যাফ্লেক। যারা একসঙ্গে পর্দায় চমক সৃষ্টি করেছেন বছরের পর বছর ধরে। তারকাবহুল এই জুটির বন্ধুত্ব এবং পেশাদার সম্পর্ক তাদের অভিনয়ের রসায়নকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাদের বন্ধুত্বের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, যখন তারা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন ‘ফিল্ড অব ড্রিমস’-এ। এরপর ‘স্কুল টাইস’ (১৯৯২), ‘গুড উইল হান্টিং’ (১৯৯৭), ‘চেসিং অ্যামি’ (১৯৯৭), ‘ডগমা’ (১৯৯৯), ‘জে অ্যান্ড সাইলেন্ট বব স্ট্রাইক ব্যাক’ (২০০১), ‘জে অ্যান্ড সাইলেন্ট বব রিবুট’ (২০১৯), ‘দ্য লাস্ট ডুয়েল’ (২০২১) এবং ‘এয়ার’ (২০২৩)-এ তারা অভিনয় করেন। এই দীর্ঘ সহযোগিতা এবং একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়ার কারণে তাদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘দ্য রিপ’।
নেটফ্লিক্সের নতুন অ্যাকশন-ক্রাইম থ্রিলার ‘দ্য রিপ’ পরিচালনা করেছেন জো কার্নাহান। যিনি এর আগে ‘দ্য গ্রে’ এবং ‘নার্ক’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা নির্মাণ করেছেন।
‘দ্য রিপ’ সিনেমাটি মায়ামির ঝলমলে রাতের আলো, সমুদ্রের ঢেউ এবং গলিপথের অন্ধকারের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। এখানে ম্যাট ডেমন অভিনয় করেছেন লেফটেন্যান্ট ডেন ডুমার্স চরিত্রে, আর বেন অ্যাফ্লেক অভিনয় করেছেন ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জেডি বার্ন-এর ভূমিকায়। তাদের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন টেয়ানা টেলর (ডিটেকটিভ নুমা ব্যাপ্টিস্ট) এবং কাতালিনা সান্দিনো মোরেনো (ডিটেকটিভ লোলো সালাজার)।
এ ছাড়া আছেন সাশা কালে, স্কট অ্যাডকিন্স, কাইল চ্যান্ডলার, নেস্তর কার্বোনেল, দাইসুকে সুজি, হোসে পাবলো কান্তিয়ো, স্কট টেলার, শন মাইকেল, ইভান আমারো বুলোন, ক্রিস সিলভেস্ট্রি, ক্যাথলিন ডেমিং, ডেভ ফেরিয়ার, চিরিল পলান, লিনা এসকোসহ আরও অনেকে।
‘দ্য রিপ’ শুধু একটি ক্রাইম বা অ্যাকশন সিনেমা নয়; এটি এক জটিল ন্যারেটিভ, যেখানে প্রতিটি ফ্রেমে ফুটে ওঠে বিশ্বাসঘাতকতা, লোভ এবং টিকে থাকার লড়াই। আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন নিজেদের নৈতিক সীমা পরীক্ষা করে, দর্শকরা এক মুহূর্তে অনুভব করতে পারে–প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল্য কতটা চরম। মার্কিন গণমাধ্যমে জানানো হয়, এটি শুধু একটি থ্রিলারের গল্প নয়; এটি লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং টিকে থাকার চূড়ান্ত পরীক্ষার গল্প। সিনেমাটির প্রথম ট্রেলার নেটফ্লিক্স প্রকাশ করেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। ট্রেলারে দেখা যায় মায়ামি-ডেড ট্যাকটিকাল নারকোটিকস টিম একটি পরিত্যক্ত স্ট্যাশ হাউসে লক্ষাধিক ডলার আবিষ্কার করে। সেই ডলারগুলো নিয়েই শুরু হয় বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। সেই সময় থেকেই দর্শকরা সিনেমাটি দেখার অপেক্ষায়। গতকাল নিউইয়র্কে সিনেমাটির প্রাক প্রদর্শনী হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার সব কলাকুশলী।
মার্কিন গণমাধ্যমে ম্যাট ডেমন বলেন, ‘সিনেমাটি দেখলে প্রথমে মনে হবে এটা একেবারেই সহজ একটা গল্প। বাইরের দৃষ্টিতে এটা সহজ মনে হয়, নগদ অর্থ হাতে নাও, গণনা কর এবং জমা দাও। কিন্তু ভিতরে, সবকিছু ভিন্ন।’ তার এই কথায় বেন অ্যাফ্লেক যোগ করেন, ‘আপনি কী করবেন যখন এই বিশাল লোভের মুখোমুখি হবেন? এ যেন সেই অনুভূতি দেখতে পাওয়া যে, আপনি কাদের বিশ্বাস করবেন।’
সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা জো কার্নাহান বলেন, ‘বাইরের দুনিয়াও বিপজ্জনক। তারা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারে না, এমনকি একে অপরকেও নয়। বাইরে যেতে পারে না, তাই টার্গেট এবং এখন তারা সেই অর্থ গণনা করতে বাধ্য– কিন্তু ঠিক জানে না, কাকে বিশ্বাস করবে।’
সবশেষে বলা যায় ‘দ্য রিপ’ কেবল একটি অপরাধ থ্রিলার নয়; এটি মানুষের নৈতিকতার সীমা, বিশ্বাস এবং লোভের পরীক্ষা। মায়ামির গলিপথের অন্ধকার এবং ঝলমলে রাতের আলো এক সঙ্গে মিলিয়ে দর্শককে ধরে রাখবে শেষ পর্যন্ত। সিনেমাটি আগামীকাল থেকে নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে।











